Posts

Showing posts with the label ইসলামী ব্যাক্তিত্ব

কথাটি কি দয়ার্দ্র? - রেহনুমা বিনত আনিস।

Image
কথাটি কি দয়ার্দ্র? লিখেছেন  রেহনুমা বিনত আনিস  ০২ অক্টোবর ২০১২, দুপুর ১২:৪২ ছোটবেলায় Readers Digest এ একটা প্রবচন পড়েছিলাম। কথাগুলো মনে গেঁথে গেছিল: ‘According to an Islamic proverb, before you speak a single word it should cross three doors. At the first door the gatekeeper asks, ‘Is it necessary?’ At the second the gatekeeper asks, ‘Is it true?’ At the third, ‘Is it kind?’  যারা কথা বেশি বলেন তাদের সবারই অভিজ্ঞতা রয়েছে কোন না কোন সময় কোন বেফাঁস কথা বলে মাত্র ‘oops’ করে দুহাতে নিজের মুখ নিজেই চেপে ধরার। কিন্তু ততক্ষণে তীর ছুটে গেছে, হয়ত লক্ষ্যভেদও হয়ে গিয়েছে, সময়ের চাকা ঘুরিয়ে কোনভাবেই তাকে আর ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব না।  আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ এবং প্রতিফল দিবসে বিশ্বাস রাখে তার উচিত হয় ভাল কথা বলা নয় চুপ করে থাকা’ (বুখারী)। অধিকাংশ ভুল বোঝাবুঝির সূচনা অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে যা গড়াতে পারে হাতাহাতি থেকে যুদ্ধ পর্যন্ত। অধিকাংশ অপ্রয়োজনীয় কথাই গীবত শ্রেণীভুক্ত, আর কিছু হোল অহেতুক আড্ডা বা হাসিঠাট্টা জাতীয় কথাবার্তা যা অনেক সময় সীমারেখা অতিক্রম করে যায়, সম...

জীবনের উদ্দেশ্য - রেহনুমা বিনত আনিস।

Image
জীবনের উদ্দেশ্য লিখেছেন  রেহনুমা বিনত আনিস  ৩১ জুলাই ২০১২, সন্ধ্যা ০৬:৪৮ আইসল্যান্ডের এক যুবক, বয়স ২৭, পেশায় জেলে। নিজের নৌকা নেই তাই অন্যদের নৌকায় ভাড়া খাটে।  সেদিন প্রচন্ড ঠান্ডা হলেও আবহাওয়া শান্তই ছিল। ওরা চারজন যখন নৌকা নিয়ে রওয়ানা দিল তখন সমুদ্রের পানি হ্রদের মত শান্ত। আধঘন্টা পর ফিয়র্ডের খাঁজে মাছ শিকার করছিল ওরা, মাছ পাওয়া যাচ্ছিল ভালই। হঠাৎ ফিয়র্ডের পানি অশান্ত হয়ে উঠতে লাগল, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা দেখতে পেল সাগরের শান্ত পানিগুলো নৌকার খুব কাছেই চক্রাকারে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। ইঞ্জিনে জোর টান দিয়ে ঘুর্ণিপাকের কাছ থেকে নৌকা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল ক্যাপ্টেন। প্রাণপনে চেষ্টা করেও যখন সে বুঝতে পারল নৌকা ঘুর্ণিপাকে প্রবেশ করছে তখন নিরুপায় হয়ে সে সবাইকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ রক্ষা করার চেষ্টা করতে নির্দেশ দিল। পানি ছিল প্রচন্ড ঠান্ডা, দ্রুত পানি থেকে শুকনো জায়গায় উঠতে না পারলে হাইপোথার্মিয়ায় মৃত্যু নিশ্চিত। কিন্তু সলিল সমাধি থেকে প্রাণরক্ষা করতে চাইলে এর কোন বিকল্প ছিলোনা। আশেপাশে কোন নৌকার চিহ্ন পর্যন্ত নেই, মাটি অনেক দূরে, সাঁতার দিতে গেলে দেহ তাপশূণ্য হয়ে নিশ্চিত মৃত্যু। তব...

জীবনের উদ্দেশ্য - রেহনুমা বিনত আনিস।

জীবনের উদ্দেশ্য লিখেছেন  রেহনুমা বিনত আনিস  ৩১ জুলাই ২০১২, সন্ধ্যা ০৬:৪৮ << আগের পোস্ট পরের পোস্ট >> আইসল্যান্ডের এক যুবক, বয়স ২৭, পেশায় জেলে। নিজের নৌকা নেই তাই অন্যদের নৌকায় ভাড়া খাটে।  সেদিন প্রচন্ড ঠান্ডা হলেও আবহাওয়া শান্তই ছিল। ওরা চারজন যখন নৌকা নিয়ে রওয়ানা দিল তখন সমুদ্রের পানি হ্রদের মত শান্ত। আধঘন্টা পর ফিয়র্ডের খাঁজে মাছ শিকার করছিল ওরা, মাছ পাওয়া যাচ্ছিল ভালই। হঠাৎ ফিয়র্ডের পানি অশান্ত হয়ে উঠতে লাগল, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা দেখতে পেল সাগরের শান্ত পানিগুলো নৌকার খুব কাছেই চক্রাকারে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। ইঞ্জিনে জোর টান দিয়ে ঘুর্ণিপাকের কাছ থেকে নৌকা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল ক্যাপ্টেন। প্রাণপনে চেষ্টা করেও যখন সে বুঝতে পারল নৌকা ঘুর্ণিপাকে প্রবেশ করছে তখন নিরুপায় হয়ে সে সবাইকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ রক্ষা করার চেষ্টা করতে নির্দেশ দিল। পানি ছিল প্রচন্ড ঠান্ডা, দ্রুত পানি থেকে শুকনো জায়গায় উঠতে না পারলে হাইপোথার্মিয়ায় মৃত্যু নিশ্চিত। কিন্তু সলিল সমাধি থেকে প্রাণরক্ষা করতে চাইলে এর কোন বিকল্প ছিলোনা। আশেপাশে কোন নৌকার চিহ্ন পর্যন্ত নেই, মাটি অনেক দূরে, সাঁতার দিতে ...

এতো কষ্ট কেন বেঁচে থাকায়?

Image
এতো কষ্ট কেন বেঁচে থাকায়? জীবন নিয়ে আমাদের কমবেশি কমপ্লেইন আছে প্রায় সবারই। আমাদের দুঃখের তালিকা যেন আর শেষ হয় না! স্বামী-স্ত্রীর মাঝে না-পাবার গল্প, মায়ের মুখে সন্তান শোনে কতো আক্ষেপ আর বেদনার হাহাকার, দু’ বন্ধুর কথা শুনুন, সেখানেও দুঃখেরই প্রলাপ! আমরা সবাই (অন্তত যারা এই নোটটা পড়ছেন), খাচ্ছি- দাচ্ছি, আমাদের মাথার উপর ছাদ আছে, গায়ে কাপড় আছে, সামনে একটা পিসি/ হাতে মোবাইল সেট! এই হয়তো এক্ষণ আপনার কথায় এক কাপ চা এনে সামনে রাখা হলো, বা আপনি পড়াশুনার (বা আড্ডার উদ্দেশ্যে) কলেজ/ ভার্সিটির দিকে যাচ্ছেন... এতোকিছু পেয়ে তবুও আমাদের মনে না পাবার দুঃখ। আমাদের সবসময় মনে হয় এটা পেলাম না, ওটা পেলাম না... বাড়ি নাই, গাড়ি নাই, ডিজাইনার কামিজ নাই, ডি.এস.এল.আর ক্যামেরা নাই, দামী মোবাইল সেট নাই, সুন্দর একটা ব্যাগ নাই, ভালোবাসার মানুষ নাই, বন্ধু নাই!! আরো কতো কী...! কার সাথে তুলনা করছি আমরা? আমাদের সামনে দু’ ধরনের এক্সাম্পল রয়েছে। এক, দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন, যেখানে তিনি মদীনায় যাবার পর পরপর তিন দিন কোনদিন পেট পুরে খেতে পারেন নি। ক্ষুধার কষ্ট জানেন তো? কখ...

সৎ এবং সাহসী মানুষ।

Image
সৎ এবং সাহসী মানুষ ১। জোন অফ আর্ক, ইখতিয়ারুদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজি, উসামা বিন জায়েদ- এরা ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে জন্মেছে এবং বেড়ে উঠেছে। কিন্ত এদের মাঝে রয়েছে এক বিরল সাদৃশ্য। এরা প্রত্যেকেই জাতির সংকটময় মূহূর্তে নিজ নিজ সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে অকল্পনীয় পরিস্থিতির ভেতর বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এদের আরেকটা মিল হোল ওরা সবাই ছিল টিনেজার- early teenager. অথচ তাদের বোঝার ক্ষমতা, মেধা, যোগ্যতা, দায়িত্বশীলতা ছিল অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ এবং পরিপক্ক লোকজনকে পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট। আজ পৃথিবীর কোথাও কি আমরা এমন একজন টিনেজার খুঁজে বের করতে পারব? আমাদের টিনেজারদের দোষ নয়- তাদের বাবারা কলের ইঁদুরের মত টাকার পেছনে ছুটছেন, পরিবারকে এনে দিচ্ছেন সকলপ্রকার ধনসম্পদ প্রাচুর্য সম্ভার কিন্তু সন্তানের গঠনপ্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ করার সময় নেই; মায়েরা স্বাভাবিকভাবেই অনুভূতিপ্রবণ এবং সন্তানের কল্যাণকামী, কিন্তু স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তানকে আগলে রাখার প্রবণতা বেড়ে এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যা তাকে পঙ্গু করে ফেলার জন্য যথেষ্ট। আর স্বামী যখন সর্বদাই অনুপস্থিত তখন মায়ের এই অতিরিক্ত protecti...

আপনার ঘর কী ইসলামিক ঘর, আপনার পরিবার কি ইসলামী পরিবার?

Image
আল্লাহ সুবহ়ানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের ঘরে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন…” [১] প্রশ্নটা হয়তো শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগতে পারে। অনেকে হয়তো শোনা মাত্রই বলে বসবেন, “আমার বাড়ি অবশ্যই ইসলামিক বাড়ি!! আমরা মুসলিম পরিবার, কাজেই আমাদের বাড়ি পুরোপুরি ইসলামিক!!” আসলেই কি? নিচে দেওয়া ছোট্ট চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখুন তো আসলেই আপনার বাড়ি ইসলামিক কি না? ১. আমি একজন ধার্মিক জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছি ধার্মিক ও ন্যায়নিষ্ঠ জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে অনেক হ়াদীস়েই গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে। কেন বলা হয়েছে সেটাও স্পষ্ট: সাধারণ জীবনসঙ্গীদের তুলনায় একজন ধার্মিক জীবনসঙ্গী সংসারে অধিক সুখ ও পরিতৃপ্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবে। স্ত্রী ধার্মিক হলে অন্যান্য স্ত্রীদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে। ধার্মিক স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে গড়ে তুলতে পারবে একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও ধার্মিক পরিবার। আর এটাই ইসলামিক বাড়ির মূল ভিত্তি। ২. আমি আমার জীবনসঙ্গীকে সাহায্য করি প্রত্যেকের নিজ নিজ কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন, দুজনের মধ্যে মমতা ও ভালোবাসার বন্ধনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক একটি পরিবার। অন্যান্য আধ্যা...

জীবনে ভালো থাকার জন্য যা করতে হবে

Image
জীবনে ভালো থাকার জন্য যা করতে হবে জীবন কতনা অদ্ভূত! কখনও কতইনা সুন্দর আর আনন্দময়, আর কখনও কত কষ্টকর! আমাদের জীবনটাই যে এমন! কেউ তো জানিনা আমার যতি চিহ্ন কোথায়… কী নিয়ে দুঃখ করবো আমি? আজ হয়ত আমি অনেক সুখী, যদি আজই চলে যেতে হয় এই জগত ছেড়ে, তবে আমি কি প্রস্তুত যাওয়ার জন্য? আমি যতটুকু সুখে আছি, অনেকেই তো তার চাইতে খারাপ আছেন, তাইনা?জীবনটাই তো এমন! অনেক পাওয়া আর না পাওয়া দিয়ে ঘেরা… অনেক তৃপ্তি আর অতৃপ্তি মাখানো… তাকে তো আপন করে নিলে চলেনা! তাকে সাথে করে চলতে হতে হয়। এলোমেলো হয়ে গেলেও প্রস্তুত হতে হবে আখিরাতের জন্য… সেটাতে ভুলে গেলে চলবেই না! একটা কথা শুনেছিলাম : জীবনে যা ঘটেছে, তা ভালো হয়েছে। যা হচ্ছে, তা-ও ভালো হচ্ছে। আর ভবিষ্যতে যা ঘটবে, তা-ও ভালোই হবে ছেলেবেলায় শোনা সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলোঃ এক লোক মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখেন তার জুতো জোড়া হারিয়ে গেছে। ভীষণ মন খারাপ করে তিনি পথ চলতে শুরু করলেন খালি পায়ে। কিছুদূর যাবার পর তিনি দেখলেন একজন ভিক্ষুককে যার দু’টো পা-ই নেই… তখন তার নিজের জুতো হারাবার দুঃখ ঘুচে গেলো… আমার তো অন্ততঃ দু’টো পা অক্ষত আছে! যাক না দু’জোড়া জুতো… এটা...

অন্যের সাথে কথা বলার ১৬ টি শিষ্টাচার

Image
কিছু বিধিমালা প্রণয়ন করেছে যেগুলো একজন মুসলিমের মেনে চলা উচিত, সর্বদা এই দৃঢ়চিত্ত বিশ্বাস রাখা উচিত যে সে যা কিছু বলে তার জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে এবং ভালো কথার জন্য সে পুরস্কৃত হবে ও মন্দ কথার জন্য শাস্তি পাবে। সূরা ক্বাফের ১৮ নং আয়াতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন যার অর্থটা এরকম, “(ক্ষুদ্র) একটি শব্দও সে উচ্চারণ করেনা, যা সংরক্ষণ করার …জন্য একজন সদা সতর্ক প্রহরী তার পাশে নিয়োজিত থাকে না।” রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে সতর্ক করেছেন এই বলে যে কথা খুবই বিপজ্জনক। তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহর রেওয়াতে বর্ণিত একটি সহীহ্ হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “একজন ব্যক্তি এমন কোন কথা বলতে পারে যা আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়, এবং সে এই বিষয়ে খুব একটা চিন্তা করে না কিন্তু আল্লাহ্ সুবহানাওয়া তা’আলা সেটার গুরুত্ব দেন আর সেই কথার জন্য শেষ বিচারের দিনে তার ওপর সন্তুষ্ট হন। এবং একজন ব্যক্তি এমন কোন কথা বলে যে সেটা আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয় কিন্তু সে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না কিন্তু আল্লাহ্ সুবহানাওয়া তা’আলা শেষ বিচারের দিবসে তার প্রতি ক্রোধান্বিত হবেন।” কথাবার্তা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই আমরা সেটা ইসলামিক বিধিমালা, আল্লাহ্ ও ...

রহস্য গল্প- একজন আদর্শ স্বামী

Image
' (রহস্য গল্প)একজন আদর্শ স্বামী. পয়ত্রিশ বছর বয়সে মেগাসিটি ঢাকায় নিজের ফ্ল্যাটে বসে সিগারেট ধরাতে গিয়ে পনের বছর বয়সে গ্রামের আখ ক্ষেতের আড়ালে গিয়ে সিগারেট ধরানোর মধ্যে অদ্ভুত এক সাদৃশ্য লক্ষ্য করলাম। সিগারেট ধরাতে চাচ্ছি কিন্তু পারছিনা।হাত কাঁপছে। এভাবেই কেঁপেছিল এখন থেকে মোটামুটি বছর বিশেক আগে সেই আখ ক্ষেতে বসে জীবনে প্রথমবারের মত সিগারেট ধরানোর সময়।এরপর অসংখ্যবার কাজটা করা হলেও আজকের মত কখনোই হয়নি। আমি আবাব্রো লাইটার ধরিয়ে মুখের কাছে আনতেই দেখতে পেলাম শিখাটা কাঁপছে। বিশ বছর আগের সেইদিনটার সাথে আরো একটা ক্ষেত্রে মিল আছে আজকের দিনটার।সেদিন যেমন জীবনের প্রথম কোনও নিষিদ্ধ কাজ করার উত্তেজনায় হাত কেঁপে উঠেছিল আজও একই ব্যাপার।নিষিদ্ধ কাজগুলো বোধহয় সবসময়ই স্নায়ুকে এভাবেই শিথিল করে দেয়।প্রাথমিক উত্তেজনা কেটে যেতেই একটা অবসাদ এসে ভর করে শরীরে। আমি আপাতত সিগারেট ধরানো বাদ দিয়ে ঘুরে খাটের উপর বসা নীলার দিকে তাকালাম।একটা চাদর দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছে ও।আমি তাকাতেই আমার দিকে কেমন একটা হাসি দিয়ে খাট থেকে নেমে পাশের রুমে চলে গেল। আমি আবার সিগারেট ধরানোয় মন দিলাম।আশ্চর্য!এবার কোনো ধরনের কাঁপাকাঁপ...

তারেক বিন জিয়াদ : অকুতোভয় ইসলামের সৈনিক

Image
 এটি একটি রোমাঞ্চকর ও ঈমান উদ্দীপক উপখ্যানের পরিণাম। এ উপখ্যানের সূচণা হয়েছিল ৫ই রজব ৯২ হিজরী মোতাবেক ৯ই জুলাই ৭১১ খৃষ্টাব্দে। যখন এক খৃষ্টান গভর্নর আফ্রিকা ও মিসরের আমীর মুসা ইবনে নুসাইরের দরবারে এ ফরিয়াদ নিয়ে এসেছিল যে, স্পেনের বাদশাহ রডারিক তার কুমারী কন্যার ইজ্জত হরণ করেছে আর সে এ অপমানের প্রতিশোধ নিতে চায় যা মুসলমানদের সহযোগিতা ছাড়া আদৌ সম্ভব নয়। মুসা ইবনে নুসাইর তখন তারেক ইবনে যিয়াদকে আহ্বান করলেন। . রডারিকের বিরুদ্ধে যে গভর্নর ফরিয়াদ নিয়ে এসেছিল তার নাম ছিল কাউন্ট জুলিয়ন। তিনি ছিলেন মরক্কোর উপকূলীয় ‘সাবতা’ এলাকার গভর্নর। একসময় এ এলাকায় তার নিজস্ব শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেও ছিল একজন খৃষ্টান। কিন্তু রডারিক তাকে করদ রাজা বানিয়ে রেখেছিল। রডারিক ছিল একজন অত্যাচারী শাসক। তার বহুবিধ অপকর্মের অন্যতম ছিল, সে তার প্রজাদের উঠতি বয়সের তরুণীদের ‘রাজ প্রশিক্ষণ” এর নাম করে তার অধীনে রেখে তাদের সাথে কামচাহিদা চরিতার্থ করত। জুলিয়নের অসম্ভব সুন্দরী মেয়ে ফ্লোরিডা তার পরিচর্যাধীন ছিল। পরিশেষে রডারিক তার সাথেও কামচাহিদা চরিতার্থ করে। কণ্যা পিতা জুলিয়নকে তার নির্যাতিতা হওয়ার বিষয়ে অ...

বিয়ে সম্পর্কে ৩৫ বিখ্যাত উক্তি

Image
ভাষার সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত অনেক বানী অনেক কথা বিবাহিত জীবন থেকে বই পুস্তকে লিখা হয়েছে যদি সবগুলি লিখতে হয় আমার সময় ফুরিয়ে যাবে তবুও লিখা শেষ হবেনা তবুও বিয়ে সম্পর্কে এই উক্তিগুলোর অনেকগুলো করেছেন বিখ্যাত মানুষেরা। তাদের নাম এখানে উল্লেখ করা হল না এই কারণে যে এগুলো আসলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষেরই মনের কথা,প্রাণের কথা। আর এই কথা গুলোকেই আমরা বাণী চিরন্তনী বলে আখ্যায়িত করেছি। 1. আমি আর আমার স্ত্রী জীবনের ২৫টা বছর বড়ো আনন্দে কাটিয়েছি। তারপর আমাদের পরিচয় হল। 2. ”A man is incomplete until he is married. After that, he is finished.” 3. আমি বহুদিন আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলি নি, আমি আসলে তাকে কথার মাঝখানে থামাতে চাই নি। 4. সব বিয়েই সুখের। পরবতী সময়ে একসঙ্গে থাকতে গিয়েই যত ঝামেলা হয়। 5. বিয়েঃ একটি বৈধ ও ধর্মসম্মত অনুষ্ঠান যেখানে দুজন বিপরীত (সাধারণত) লিঙ্গের মানুষ পরস্পরকে জ্বালাতন করা এবং পরস্পরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার শপথ নেয় ততদিনের জন্য যতদিন না মৃত্যু এসে তাদেরকে আলাদা করে। 6. সুখি দাম্পত্য জীবনের জন্য একজন পুরুষের উচিত তার মুখ বন্ধ রাখা আর চেকবই খোলা রাখা। 7. সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে একটু ভালোব...

তালাক নিয়ে ভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেয়, তালাক দেওয়ার সঠিক নিয়ম কী??

Image
তালাক একটি অভিশাপঃ একটি অপপ্রচার আমরা মুসলমান। পৈত্রিক সূত্রে মুসলমান। বাবা-মা মুসলমান, তাই আমিও মুসলমান। কিন্তু অনেকেই জানেনা মুসলমানিত্বের প্রকৃত মর্ম। ইসলামী রীতিনীতি তাই অনেক সময় আমাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন “তালাক”। আমরা মুসলমান বলেই ধর্মীয় কিছু বিষয় মানতে আমরা একান্ত বাধ্য। যেমন- ছেলেদের খাৎনা করানো, বিয়ের সময় দু’জন স্বাক্ষ্য রাখা, মৃত্যুর সময় ইসলামী শরীয়ত মোতাবিক কাফন দাফন ইত্যাদী। যেগুলো সারা জীবন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নাক সিটকালেও আমরা করে থাকি বা করতে বাধ্য হই। এমনি একটি বিষয় হল “স্ত্রীকে তিনি তালাক দিলে তাকে আর রাখা যাবেনা,” এই বিধানটি। একটি ধুম্রতা মুখে তিন তালাক বললেই বিশ পঁচিশ বছরের হাজারো সুখ দুঃখের সাথি অর্ধাঙ্গিনী চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে, এই বিধানটি অমানবিক বলেই মনে হয়। এ কেমন কথা? রাগের মাথায় তিন তালাক বললাম আর আমার এতদিনের জীবন সঙ্গীনী হারাম হয়ে গেল? বড়ই বেমানান লাগে কুরআনের এই বিধানটি আমাদের ধর্মজ্ঞানহীন মনে। কিন্তু আসলেই কী তাই? এই বিধানটির শরয়ী প্রয়োগ পদ্ধতী কী আমরা জানি? জানলে এই উদ্ভট প্রশ্নটি মনে জাগরিত হতোনা। তালাক দেয়ার শরীয়া পদ্ধতি তালাক ইসলামে একটি অপ...

যে ধরনের মেয়েকে বিবাহ করতে হবে

Image
কোন ধরণের মেয়েকে বিবাহ করতে হবে প্রশ্নঃ ইসলামী দৃষ্টিতে কোন ধরণের মেয়েকে বিবাহ করতে হবে ? উত্তরঃ ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন নারীকে বিবাহ করতে হবে। তা আমরা নিম্নোক্ত হাদীসগুলো থেকে বুঝতে পারব। নিচে এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীস ও তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া হল। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- নারীকে চার কারণে বিবাহ করা হয় (১) তার সম্পদের কারণে। (২) তার বংশ মর্যাদার কারণে। (৩) তার সৌন্দর্যের কারণে এবং (৪) তার ধর্মের কারণে। সুতরাং তুমি ধার্র্মিক নারী লাভ করে কামিয়াব হও। তোমাদের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক অর্থাৎ- তুমি ধ্বংস হও। (যদি অন্য নারী চাও)। [দেখুনঃ বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ] এ হাদীসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা – সাধারণতঃ মানুষ বিবাহের সময় হাদীসে উল্লেখিত দিক লক্ষ্য রাখে। কিন্তু হাদীস থেকে জানা গেল যে, দ্বীনদার লোকদের ধার্মিকতাকে অর্থাৎ ধার্মিক নারীকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। তোমার হস্তদ্ব ধ্বংস হোক কথাটি মূলত বদদোয়া হলেও এখানে বদদোয়া করা উদ্দেশ্য নয়, বরং ধর্মিক নারীর প্রতি অধিক আগ্রহান্বিত করাই মূল উদ্দেশ্য। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর (র...

সময় মত বিয়ে না করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে আপনার

সময় মতো বিয়ে না করলে যে সব ক্ষতি হতে পারে আপনার! হজরত আবু জর রা. থেকে একটি দীর্ঘ হাদিসে বণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আক্কাফ রা. কে বলেন, হে আক্কাফ! তোমার স্ত্রী আছে? তিনি বলেন, না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার কি সম্পদ ও স্বচ্ছলতা আছে? সে বললো, আমার সম্পদ ও স্বচ্ছলতা আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এখন শয়তানের ভাইদের দলভূক্ত। যদি তুমি খৃস্টান হতে তবে তাদের রাহেব (ধর্ম গুরু) হতে। নিঃসন্দেহে বিয়ে করা আমাদের ধর্মের রীতি। তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি যে অবিবাহিত। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যেও নিকৃষ্ট ব্যক্তি যে অবিবাহিত। তোমরা কি শয়তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাও। শয়তানের নিকট নারীর চেয়ে ভয়ংকর কোনো অস্ত্র নেই। যা ধর্মভীরু মানুষের উপরও কার্যকরী। তারাও নারী সংক্রান্ত ফেৎনায় জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যারা বিয়ে করেছে তারা নারীর ফেৎনা থেকে পবিত্র। নোংড়ামি থেকে মুক্ত। অতপর বলেন, আক্কাফ! তোমার ধ্বংস হোক। তুমি বিয়ে কর নতুবা তুমি পশ্চাৎপদ মানুষের মধ্যে থেকে যাবে। মুসনাদে আহমদ জমউল ফাওয়ায়েদ। [ইমদাদুল ফাতওয়া খন্ড-২, পৃষ্ঠা-২৫৯।] বিয়ে পোশাকতুল্য...

নেক সন্তান লাভের উপায় এবং স্ত্রী সহবাসের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ আদব-সুন্নাত!

১। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকতে হবে। ২। কোন শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত হবে না ৩। মুস্তাহাব হলো “বিসমিল্লাহ” বলে সহবাস শুরু করা। ভুলে গেলে যখন বীর্যপাতের পূর্বে মনে মনে পড়ে নেবে। ৪। সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করাও আল্লাহর রাসুলের [সা.] সুন্নত। ৫। দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা উচিত। উল্লেখ্য যে , ধুমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা। ৬। পর্দা ঘেরা স্থানে সংগম করবে। ৭। সংগম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার (চুম্বন, স্তন মর্দন ইত্যাদি) করবে। ৮। কোনোভাবেই কেবলামূখী না হওয়া। ৯। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই একেবারে উলঙ্গ হবে না। ১০। বীর্যপাতের পর ততক্ষণাত বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং স্ত্রীর বীর্যপাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ১১। বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধারিত দোয়া পড়বে। কেননা যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সে শয়তানের প্রভাব মুক্ত হবে। ১২। নিয়ত ঠিক করুন। হযরত আলী (রা.) তাঁর অসিয়ত নামায় লিখেছেন যে, সহবাসের ইচ্ছে হলে এই নিয়তে সহবাস করতে হবে যে, আমি ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবো। আমার মন এদিক ওদিক ছুটে বেড়া...