ইসলামী সমাজ গঠনে করণীয়ঃ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার
সমাজ গঠনে করনীয়!
ভূমিকা :-
1) বিশ্বইতিহাসে শ্রেষ্ঠ সমাজ হলো রাসূলুল্লাহ
(সাঃ)প্রতিষ্ঠিত সমাজ। সেই আদর্শ সমাজের
আলোকে সমাজ গঠন করাই ইসলামী আন্দোলনের
কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সমাজ গঠন
বলতে ইসলামী সমাজ গঠন বুঝানো হয়েছে।
সে সমাজের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব হলো। আল্লাহ
তায়ালা বলেন,
ﻭﺗﻌﺎﻭﻧﻮﺍ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺘﻘﻮﻱ ﻭﻻ ﺗﻌﺎﻭﻧﻮﺍ ﻋﻠﻲ ﺍﻻﺛﻢ
ﻭﺍﻟﻌﺪﻭﺍﻥ
অর্থ : কল্যান ও তাকওয়াপুর্ন কাজে পরস্পর
সহযোগীতা কর এবং গুনাহ ও বাড়াবাড়ীমুলক
কাজে একে অপরকে সহযোগীতা করনা। (সুরা আল -
মাইদাহ,আয়াত নং-২)
যে সমাজের লোকেরা পাঁচ ওয়াক্ত নিয়মিত নামাজী,
যে সমাজের ধনীরা গরীবদের অভাব মিটানোর জন্য
হিসাব করে যাকাত দেয়, সৎকাজের আদেশ
করে এবং অসৎকাজের নিষেধ করে। আল্লাহ বলেন,
ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻥ ﻣﻜﻨﺎﻫﻢ ﻓﻲ ﺍﻻﺭﺽ ﺍﻗﺎﻣﻮﺍ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻭﺍﺗﻮﺍ
ﺍﻟﺰﻛﻮﺓ ﻭﺍﻣﺮﻭﺍ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﻧﻬﻮﺍ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ
অর্থ আমি যদি তাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করি,
তাহলে তারা নামাজ কায়েম করবে,যাকাত আদায়
করবে, সৎকাজে আদেশ করবে এবং অন্যায়
কাজে নিষেধ করবে। (সুরা আল হাজ্জ,আয়াত নং -)
অনুরুপ সমাজ গঠনে মুসলিমদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
2)ইসলামী সমাজ গঠন করবে তো মুসলিমরা। কিন্তু
যে শষ্য দিয়ে ভূত ঝাড়ানো হবে, সেই শষ্যের
গায়ে ভূত লেগেছে। নামে মুসলিম কিন্তু কাজে-
কর্মে, কথা-বার্তায়, চিন্তা-চেতনায় কাফির,
মুশরিক,মুনাফিক। বিদআতী ও ফাসিক তো স্বাভাবিক
হয়ে গেছে। কুফর, শিরক ও নিফাক ত্যাগ
করে যারা ইসলাম
বুঝেশুনে ইসলামকে সামাজিকভাবে র্সবক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত
করার জন্য সংগ্রামে রত,তারাই এখন ইসলামী সমাজ
গঠনের কর্মী। তাদেরকেই ইসলামী আন্দোলনের
কর্মী বলা হয়। তারা ইসলামী সমাজ কিভাবে গঠন
করবে, সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হল।
3)পরিপুর্নভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক
কর্মী ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ফারজ
মনে করবে। ইমাম আবু বকর আর -রাজী আল -জাসসাস
রচিত "আহকামুল কুরআন "তাফসীরের আছে,
ﻟﻴﺲ ﺑﻌﺪ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻓﺮﺽ ﺍﻛﺪ ﻭﻻ ﺍﻭﻟﻲ
ﺑﺎﻻﻳﺠﺎﺏ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ ﺍﻟﺦ
অর্থ : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের পর
জিহাদের চেয়ে অধিক তাকীদপুর্ন ফারজ ও অধিক
ওয়াজিব হওয়ার উপযুক্ত আর কিছু নেই।
শুধু ক্ষমতা পেলেই ইসলামী সমাজ গঠন হয় না।
ক্ষমতা পাওয়ার পুর্বে এবং পরে ইসলামী সমাজ গঠন
করার অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে।
নিম্মে সংক্ষপ্তভাবে কিছু করনীয় বিষয় আলোকপাত
করা হল।
সমাজ গঠনে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দায়িত্ব
ও কর্তব্য।
(ক) আখলাক ও চরিত্র নামধারী মুসলিম, সাধারন
মুসলিম ও অমুসলিমদের চেয়ে উন্নত এবং আদর্শ
স্থানীয় হতে হবে।
নৈতিক চরিত্রের প্রভাব অনেক গভীরে। সততা -
ন্যায়পরায়নতা,সত্যবাদীতা, ওয়াদা -পুরন,
চুক্তি মোতাবেক কর্মসম্পাদনাদির, আচার -ব্যবহার
ও লেনদেনে সত্যপ্রিয়তা, নম্রতা -ভদ্রতা,
উদ্দেশ্যের প্রতি গাড়ো ভালবাসা,সৎকর্মে
দৃঢ়তা ইত্যাদি গুনে কর্মীদের অন্যান্যদের
চেয়ে অধিক গুনান্বিত হতে হবে।
হযরত ইউসুফ (আঃ)নৈতিক চরিত্রের গুনে একাই
একটি দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করতে, দেশ
গড়তে ও গঠন করতে সক্ষম হন।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মহান চরিত্রের
অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ তাঁর সার্টিফিকেট
দিয়ে বলেন, ( ﺍﻧﻚ ﻟﻌﻠﻲ ﺧﻠﻖ .ﻢﻴﻈﻋ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻠﻢ
অর্থ নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিস্ঠিত।
(সুরা আল কালাম)
তাঁর এই চারিত্রিক প্রভাব শত্রু -মিত্র সবার উপর
বিদ্যমান ছিল। সমাজ গঠনে বিরাট সহায়ক
শক্তি হিসাবে কাজ করে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর চরম
শত্রু আবুজাহলও তাঁর চারিত্রিক প্রভাবের
কারনে তাঁর কথায় বিদেশীর ঋন আদায় করতে বাধ্য
হন।
এইজন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক
চরিত্রে বলিয়ান হতে হবে। অন্যান্য সকলের
চেয়ে আদর্শ স্থানীয় চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
তাহলে সমাজের অন্যান্য সদস্যদের উপর প্রভাব
পড়বে, (ইসলামী) সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। (চলবে)
ভূমিকা :-
1) বিশ্বইতিহাসে শ্রেষ্ঠ সমাজ হলো রাসূলুল্লাহ
(সাঃ)প্রতিষ্ঠিত সমাজ। সেই আদর্শ সমাজের
আলোকে সমাজ গঠন করাই ইসলামী আন্দোলনের
কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সমাজ গঠন
বলতে ইসলামী সমাজ গঠন বুঝানো হয়েছে।
সে সমাজের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব হলো। আল্লাহ
তায়ালা বলেন,
ﻭﺗﻌﺎﻭﻧﻮﺍ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺘﻘﻮﻱ ﻭﻻ ﺗﻌﺎﻭﻧﻮﺍ ﻋﻠﻲ ﺍﻻﺛﻢ
ﻭﺍﻟﻌﺪﻭﺍﻥ
অর্থ : কল্যান ও তাকওয়াপুর্ন কাজে পরস্পর
সহযোগীতা কর এবং গুনাহ ও বাড়াবাড়ীমুলক
কাজে একে অপরকে সহযোগীতা করনা। (সুরা আল -
মাইদাহ,আয়াত নং-২)
যে সমাজের লোকেরা পাঁচ ওয়াক্ত নিয়মিত নামাজী,
যে সমাজের ধনীরা গরীবদের অভাব মিটানোর জন্য
হিসাব করে যাকাত দেয়, সৎকাজের আদেশ
করে এবং অসৎকাজের নিষেধ করে। আল্লাহ বলেন,
ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻥ ﻣﻜﻨﺎﻫﻢ ﻓﻲ ﺍﻻﺭﺽ ﺍﻗﺎﻣﻮﺍ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻭﺍﺗﻮﺍ
ﺍﻟﺰﻛﻮﺓ ﻭﺍﻣﺮﻭﺍ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﻧﻬﻮﺍ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ
অর্থ আমি যদি তাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করি,
তাহলে তারা নামাজ কায়েম করবে,যাকাত আদায়
করবে, সৎকাজে আদেশ করবে এবং অন্যায়
কাজে নিষেধ করবে। (সুরা আল হাজ্জ,আয়াত নং -)
অনুরুপ সমাজ গঠনে মুসলিমদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
2)ইসলামী সমাজ গঠন করবে তো মুসলিমরা। কিন্তু
যে শষ্য দিয়ে ভূত ঝাড়ানো হবে, সেই শষ্যের
গায়ে ভূত লেগেছে। নামে মুসলিম কিন্তু কাজে-
কর্মে, কথা-বার্তায়, চিন্তা-চেতনায় কাফির,
মুশরিক,মুনাফিক। বিদআতী ও ফাসিক তো স্বাভাবিক
হয়ে গেছে। কুফর, শিরক ও নিফাক ত্যাগ
করে যারা ইসলাম
বুঝেশুনে ইসলামকে সামাজিকভাবে র্সবক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত
করার জন্য সংগ্রামে রত,তারাই এখন ইসলামী সমাজ
গঠনের কর্মী। তাদেরকেই ইসলামী আন্দোলনের
কর্মী বলা হয়। তারা ইসলামী সমাজ কিভাবে গঠন
করবে, সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হল।
3)পরিপুর্নভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক
কর্মী ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ফারজ
মনে করবে। ইমাম আবু বকর আর -রাজী আল -জাসসাস
রচিত "আহকামুল কুরআন "তাফসীরের আছে,
ﻟﻴﺲ ﺑﻌﺪ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻓﺮﺽ ﺍﻛﺪ ﻭﻻ ﺍﻭﻟﻲ
ﺑﺎﻻﻳﺠﺎﺏ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ ﺍﻟﺦ
অর্থ : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের পর
জিহাদের চেয়ে অধিক তাকীদপুর্ন ফারজ ও অধিক
ওয়াজিব হওয়ার উপযুক্ত আর কিছু নেই।
শুধু ক্ষমতা পেলেই ইসলামী সমাজ গঠন হয় না।
ক্ষমতা পাওয়ার পুর্বে এবং পরে ইসলামী সমাজ গঠন
করার অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে।
নিম্মে সংক্ষপ্তভাবে কিছু করনীয় বিষয় আলোকপাত
করা হল।
সমাজ গঠনে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দায়িত্ব
ও কর্তব্য।
(ক) আখলাক ও চরিত্র নামধারী মুসলিম, সাধারন
মুসলিম ও অমুসলিমদের চেয়ে উন্নত এবং আদর্শ
স্থানীয় হতে হবে।
নৈতিক চরিত্রের প্রভাব অনেক গভীরে। সততা -
ন্যায়পরায়নতা,সত্যবাদীতা, ওয়াদা -পুরন,
চুক্তি মোতাবেক কর্মসম্পাদনাদির, আচার -ব্যবহার
ও লেনদেনে সত্যপ্রিয়তা, নম্রতা -ভদ্রতা,
উদ্দেশ্যের প্রতি গাড়ো ভালবাসা,সৎকর্মে
দৃঢ়তা ইত্যাদি গুনে কর্মীদের অন্যান্যদের
চেয়ে অধিক গুনান্বিত হতে হবে।
হযরত ইউসুফ (আঃ)নৈতিক চরিত্রের গুনে একাই
একটি দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করতে, দেশ
গড়তে ও গঠন করতে সক্ষম হন।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মহান চরিত্রের
অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ তাঁর সার্টিফিকেট
দিয়ে বলেন, ( ﺍﻧﻚ ﻟﻌﻠﻲ ﺧﻠﻖ .ﻢﻴﻈﻋ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﻘﻠﻢ
অর্থ নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিস্ঠিত।
(সুরা আল কালাম)
তাঁর এই চারিত্রিক প্রভাব শত্রু -মিত্র সবার উপর
বিদ্যমান ছিল। সমাজ গঠনে বিরাট সহায়ক
শক্তি হিসাবে কাজ করে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর চরম
শত্রু আবুজাহলও তাঁর চারিত্রিক প্রভাবের
কারনে তাঁর কথায় বিদেশীর ঋন আদায় করতে বাধ্য
হন।
এইজন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক
চরিত্রে বলিয়ান হতে হবে। অন্যান্য সকলের
চেয়ে আদর্শ স্থানীয় চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
তাহলে সমাজের অন্যান্য সদস্যদের উপর প্রভাব
পড়বে, (ইসলামী) সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। (চলবে)
Comments
Post a Comment