Posts

Showing posts with the label মানুষ সৃষ্টির রহস্য

বিপদে দোয়া কবুল ঘটনা ১

একদা হযরত ওমর ফারুক (রা:) একদা হযরত ওমর ফারুক (রা:) মদীনার কোন এক গলিপথ দিয়ে হেঁটে চলছিলেন। হঠাৎ একটি যুবকের প্রতি তাঁর দৃষ্টি পড়ে গেল। সে তার পরিহিত বস্ত্রের নীচে একটি বোতল লুকিয়ে রেখেছিল। হযরত ওমর (রা:) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে যুবক! তুমি তোমার বস্ত্রের নীচে কি ঢেকে রেখেছ ? বোতলটি মদ ভর্তি ছিল; সুতরাং যুবকটি জবাব দিতে ইতস্তত: করছিল; কিন্তু সে তখন আত্ম অনুশোচনায় ও ভয়-ভীতিতে বিহবল অবস্থায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করল: হে মাবুদ ! আমাকে তুমি খলিফা ওমর (রা:) এর সামনে লজ্জিত করো না।তাঁর কাছ থেকে ত্রুটি ও অপরাধ গোপন রাখ। আমি তোমার নিকট খাঁটি তওবাহ করছি এবং এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, জীবনে আর কোনদিনই আমি মদ স্পর্শ করবো না। এরুপ তওবাহ করার পরক্ষণেই যুবক হযরত ওমর (রা:) এর প্রশ্নের জবাব দিল যে, হে খলিফা! আমার কাছে এটি একটি সিরকার বোতল; কিন্তু খলিফা তার কথায় পূর্ণ আস্থা না এনে বোতলটি দেখতে চাইলেন। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তখন বোতলটি তার সামনে পেশ করা হল।দেখা গেল যে, বোতলটি মধ্যে সত্যিই সিরকা ভর্তি রয়েছে। কেউ এভাবে ভীত মনে কোন লজ্জাজনক ও পাপকাজ থেকে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানালে এবং খাঁটি তাওবাহ করে নিলে আল্...

ডাক্তার যদি রোযা রাখতে নিষেধ করে!!

প্রশ্নঃ (৪০১) জনৈক মহিলা কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ডাক্তারগণ তাকে রোযা রাখতে নিষেধ করেছে। এর বিধান কি? উত্তরঃ আল্লাহ্ বলেন, ] ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻫُﺪًﻯ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺑَﻴِّﻨَﺎﺕٍ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﻭَﺍﻟْﻔُﺮْﻗَﺎﻥِ ﻓَﻤَﻦْ ﺷَﻬِﺪَ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﺍﻟﺸَّﻬْﺮَ ﻓَﻠْﻴَﺼُﻤْﻪُ ﻭَﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻣَﺮِﻳﻀًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﻔَﺮٍ ﻓَﻌِﺪَّﺓٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺃُﺧَﺮَ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻜُﻢْ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺑِﻜُﻢْ ﺍﻟْﻌُﺴْﺮَ [ রামাযান হচ্ছে সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ অথবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করে নিবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য কঠিন কামনা করেন না।(সূরা বাক্বারাঃ ১৮৫) মানুষ যদি এমন রোগে আক্রান্ত হয় যা থেকে সুস্থ হওয়ার কোন আশা নেই। তবে প্রতিদিনের বিনিময়ে একজন করে মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াবে। খাদ্য দেয়ার পদ্ধতি হচ্ছে, মিসকীনকে পরিমাণমত চাউল প্...

রোযা ভঙ্গের গ্রহণ যোগ্য কারণ কি কি

প্রশ্নঃ (৩৯৮) রোযা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য কারণ কি কি? উত্তরঃ রোযা ভঙ্গের কারণ সমূহ হচ্ছেঃ ১) অসুস্থতা, ২) সফর। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, ﻭَﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻣَﺮِﻳﻀًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﻔَﺮٍ ﻓَﻌِﺪَّﺓٌ ﻣِﻦْ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺃُﺧَﺮَ আর যে ব্যক্তি অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে (সে রোযা ভঙ্গ করে) অন্য দিনে তা কাযা আদায় করে নিবে।(সূরা বাক্বারাঃ ১৮৫) ৩) গর্ভবতী নারীর নিজের বা শিশুর জীবনের আশংকা করলে রোযা ভঙ্গ করবে। ৪) সন্তানকে দুগ্ধদানকারীনী নারী যদি রোযা রাখলে নিজের বা সন্তানের জীবনের আশংকা করে তবে রোযা ভঙ্গ করবে। ৫) কোন বিপদগ্রস্ত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে রোযা ভঙ্গ করা: যেমন পানিতে ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার, আগুন থেকে বাঁচাতে গিয়ে দরকার হলে রোযা ভঙ্গ করা। ৬) আল্লাহ্র পথে জিহাদে থাকার সময় শরীরে শক্তি বজায় রাখার জন্য রোযা ভঙ্গ করা। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের সময় ছাহাবীদেরকে বলেছিলেন, ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﻣُﺼَﺒِّﺤُﻮ ﻋَﺪُﻭِّﻛُﻢْ ﻭَﺍﻟْﻔِﻄْﺮُ ﺃَﻗْﻮَﻯ ﻟَﻜُﻢْ ﻓَﺄَﻓْﻄِﺮُﻭﺍ আগামীকাল তোমরা শত্রুর মোকাবেলা করবে, রোযা ভঙ্গ করলে তোমরা অধিক শক্তিশালী থাকবে, তাই তোমরা রোযা ভঙ্গ কর।[6] বৈধ কোন কারণে...

জীবনের উদ্দেশ্য - রেহনুমা বিনত আনিস।

Image
জীবনের উদ্দেশ্য লিখেছেনঃ রেহনুমা বিনত আনিস আইসল্যান্ডের এক যুবক, বয়স ২৭, পেশায় জেলে। নিজের নৌকা নেই তাই অন্যদের নৌকায় ভাড়া খাটে। সেদিন প্রচন্ড ঠান্ডা হলেও আবহাওয়া শান্তই ছিল। ওরা চারজন যখন নৌকা নিয়ে রওয়ানা দিল তখন সমুদ্রের পানি হ্রদের মত শান্ত। আধঘন্টা পর ফিয়র্ডের খাঁজে মাছ শিকার করছিল ওরা, মাছ পাওয়া যাচ্ছিল ভালই। হঠাৎ ফিয়র্ডের পানি অশান্ত হয়ে উঠতে লাগল, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা দেখতে পেল সাগরের শান্ত পানিগুলো নৌকার খুব কাছেই চক্রাকারে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। ইঞ্জিনে জোর টান দিয়ে ঘুর্ণিপাকের কাছ থেকে নৌকা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল ক্যাপ্টেন। প্রাণপনে চেষ্টা করেও যখন সে বুঝতে পারল নৌকা ঘুর্ণিপাকে প্রবেশ করছে তখন নিরুপায় হয়ে সে সবাইকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ রক্ষা করার চেষ্টা করতে নির্দেশ দিল। পানি ছিল প্রচন্ড ঠান্ডা, দ্রুত পানি থেকে শুকনো জায়গায় উঠতে না পারলে হাইপোথার্মিয়ায় মৃত্যু নিশ্চিত। কিন্তু সলিল সমাধি থেকে প্রাণরক্ষা করতে চাইলে এর কোন বিকল্প ছিলোনা। আশেপাশে কোন নৌকার চিহ্ন পর্যন্ত নেই, মাটি অনেক দূরে, সাঁতার দিতে গেলে দেহ তাপশূণ্য হয়ে নিশ্চিত মৃত্যু। তবু যদি ভাগ্যক্রমে কোন নৌকা চলে আ...

ছেড়ে দেওয়ার আগে একবার ভাবলি না! ঝুলে পড়ার আগে বুঝলিনা জীবন কারে কয়

Image
ছেড়ে দেওয়ার আগে একবার ভাবলি না! ঝুলে পড়ার আগে বুঝলিনা জীবন কারে কয় ... বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রুবেল বড়ুয়া! চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে আমরা একই সেকশনে পড়তাম। কলেজে ভর্তি হয়েই প্রথমে যে কয়জন ছেলের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয় রুবেল বড়ুয়া তার একজন। প্রায়ই আমরা একসাথে বসতাম। খুব সুন্দর গানের গলা ছিল তার। কলেজ জীবনের শুরুতেই মিনারের ডানপিঠে এ্যালবামটা খুব জনপ্রিয় হয়। মিনার আমাদের ব্যাচেরই, বি এ এফ শাহিন কলেজে পড়ত। রুবেল বলত ওর মত গলায় সফটওয়ার বসালে এরকম গান আমি গণ্ডায় গণ্ডায় গাইতে পারি। আমার এখনো মনে আছে সে টেবিলে আঙ্গুলের ঠোকা দিয়ে ‘জানি তুই আমার সাথে একলা পথের পথিক হয়ে গাইবি না গান’গানটা খুব সুন্দর গাইত। কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের মিড টার্মে আমি ফিজিক্সে ফেল করলাম। কেমিস্ট্রি পরিক্ষার দিন ম্যাথের সঞ্জয় স্যার পাশের জনের সাথে কথা বলেছিল বলে রুবেলের খাতার কিছু উত্তর কেটে দিল। বেচারা কেমিস্ট্রিতে ফেল করল। এরপর একদিন শুনলাম প্রাইভেট পড়তে গিয়ে রুবেল আর বাসায় ফেরেনি, নিখোঁজ! দুই তিন দিন পর তার খোঁজ মিলল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল রুবেলের লাশ! জানি না কি এক অভিমানে, কি এক...

শেখার আছে অনেক কিছু জানার এখনো অনেক বাকী

Image
ভাই/আপু এই লেখাটা তোমার জন্যে............... আশা করি এই লেখাটি তোমার চোখ খুলে দিবে। সবকিছু নতুন করে ভাবতে সহায়তা করবে। লেখাটি খুব মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ার আন্তরিক অনুরোধ রইল। জাযাকাল্লাহ খাইরান। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম তোমাকে প্রথমেই একটা কথা বলে রাখি, আমি খুব বিষণ্ণ মন নিয়ে এই লেখাটা লিখতে বসেছি। তবে এই বিষণ্ণতা তথাকথিত গার্লফ্রেন্ড চলে যাওয়ার বিষন্নতা নয় বা এই পৃথিবীতে কোনোকিছু হারানোর বিষণ্ণতা নয়। এই বিষণ্ণতা তোমাকে এই কথাগুলো আগে বলতে না পারার অযোগ্যতার বিষণ্ণতা, আমাদের চারিপাশে যা কিছু হচ্ছে তা সইতে না পারার বিষণ্ণতা। সবাই যখন পরীক্ষার পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত আমি তখন তোমাকে লিখতে বসেছি কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে আমার এই পরীক্ষার চেয়ে তোমাকে এই কথাগুলো বলা বেশী প্রয়োজন, বেশী গুরুত্বপূর্ণ। হয়ত আমার এই কথাগুলো তোমার ভালো নাও লাগতে পারে তারপরেও লিখলাম শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে। প্রারম্ভিক কিছু কথাঃ- কি সুন্দর এই পৃথিবী! চোখ জুড়ানো বিস্তীর্ণ শ্যামল শস্য ক্ষেত। গাছের ডালে ডালে রঙ- বেরঙের ফুল ও ফল, তারই মাঝে রঙ-বেরঙের পাখ-পাখালি ও প্রজাপতির মনভুলানো খেলা। মন ...

ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়ঃ দারসুল কোরআন

Image
দারসুল কুরআন সূরা আল-আসর (ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়) ﻭَﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ‏( 1 ‏) ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺈِﻧْﺴَﺎﻥَ ﻟَﻔِﻲ ﺧُﺴْﺮٍ ‏(2 ‏) ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻭَﺗَﻮَﺍﺻَﻮْﺍ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﻭَﺗَﻮَﺍﺻَﻮْﺍ ﺑِﺎﻟﺼَّﺒْﺮِ ‏(3 ) অর্থঃ সময়ের কসম। মানুষ আসলে খুবই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করতে থেকেছে এবং পরস্পরকে হক কথার ও সবর করার উপদেশ দিতে থেকেছে। নামকরণঃ প্রথম আয়াতের “আল আছর” শব্দটিকে এর নাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নাযিল হবার সময়কালঃ মুজাহিদ, কাতাদাহ ও মুকাতিল একে মাদানী বলেছেন। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মুফাস্সির একে মাক্কী বলেছেন। এর বিষয়বস্তু থেকে বোঝা যায় মাক্কী যুগের প্রথম অংশে অবতীর্ণ। এর আকার মাক্কী সুরার বৈশিষ্ট্য বহন করে। বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্যঃ এর মধ্যে স্পষ্ট ভাষায়, মানুষের সাফল্য ও কল্যাণ এবং ধ্বংসের পথ বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম শাফেয়ী বলেন- মানুষ যদি এই একটি সুরা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে তাহলে এটিই তাদের হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হিসন দারেমী আবু মাদীনা- ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻠَﺎﻥِ ﻣِﻦْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺭَﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﺘَﻘَﻴَﺎ...

বিয়ে কী শুধু আনন্দ- বিনোদনের জন্য? না পড়লে মিস করবেন

Image
বিবাহ শুধুই কি আনন্দ-বিনোদনের জন্য ? আমরা কি এমন করে কখনো চিন্তা করেছি বা চেয়েছি ? যুবক ভাই-বোনদের বিবাহর উদ্দেশ্য যেন আরেকজন সুলতান সালাহুদ্দিন জন্মের জন্য হয় । আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন । আমীন atik ullah atik এর ওয়াল থেকে   “লেখাটি না পড়লে জীবনের অনেক বড় একটি বিষয়ের শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন!   এক: নাজমুদ্দীন আইয়ুব (রহ.)। সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর (রা.) পিতা। তার হাতে তিকরীতের শাসনভারের গুরুদায়িত্ব। কিন্তু বিয়ের বয়েস পেরিয়ে যাচ্ছে, তবুও বিয়ের নামগন্ধ নেই। এটা দেখে ভাই আসাদুদ্দীন শিরকূহ চিন্তিত হয়ে পড়লেন: -কী ব্যাপার! তুমি বিয়ে করবে না? -আমার মনমতো পাত্রী পাচ্ছি না তো। -আমি পাত্রী দেখবো তোমার জন্যে? -পাত্রীটা কে শুনি? -মালিক শাহের মেয়ে অথবা নিযামুল মুলকের মেয়ে? -নাহ, তারা আমার কাঙ্খিত পাত্রী নয়। -তোমার কাঙ্খিত পাত্রীর বৈশিষ্ট্য কী বলো তো শুনি! -আমি চাই একজন সুশীলা স্ত্রী, যে আমার হাত ধরে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। যে আমাকে একটি নেক সন্তান উপহার দিবে। সে সন্তানকে যথাযথ লালন-পালন করে বড় করবে। বড় হয়ে সে ছেলে হবে একজন দুর্দান্ত ঘোড়সওয়ার, সাহসী ম...

ইমানের মুল পূর্ণতা অর্জনের ৬ টি বিষয়

Image
আল -কুরআনে মুমিনদের আদেশ -নিষেধ(৪৩- ৪৭) ★মুল পুর্ন হলো পাঁচটি বিষয়ের প্রতি ঈমান আনার সাথে সমাজে ছয় শ্রেনীর ব্যক্তিদের আর্থিক প্রয়োজন মিটানো। যে ছয় শ্রেনীর ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ﻭﺍﺗﻲ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﻋﻠﻲ ﺣﺒﻪ ﺫﻭﻱ ﺍﻟﻘﺮﺑﻲ ﻭﺍﻟﻴﺘﻤﻲ ﻭﺍﻟﻤﺴﺎﻛﻴﻦ ﻭﺍﺑﻦ ﺍﻟﺴﺒﻴﻞ ﻭﺍﻟﺴﺎﻳﻠﻴﻦ ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺮﻗﺎﺏ অর্থ আর সে সম্পদের ভালবাসা সত্বেও (১)নিকট আত্মীয়দের, (২)ইয়াতীমদের, (৩)মিসকীনদের, (৪)মুসাফির -মেহমানকে, (৫)প্রার্থীদের ও (৬)গোলাম আযাদ করার ক্ষেত্রে সম্পদ দান করে। ★মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ ছাড়া মানুষ বসবাস করতে পারে না। সমাজবদ্ধ বসবাস করতে পরস্পরের মধ্যে সহযোগীতা, সহমর্মিতা ও ভালবাসা থাকা আবশ্যক। এটা না থাকলে সীমাবদ্ধ জীবন যাপন করা যায়না। (১)প্রথম নিকটাত্মীয়দের প্রতি খেয়াল রাখা। তাদের সাথে সম্পর্ক গভীর করা। তাদের প্রয়োজন দেখা, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা, তাদের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। (ক) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার গুরুত্ব অনেক। তাই আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ﻻ ﻳﺪﺧﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻗﺎﻃﻊ ﺍﻟﺮﺣﻢ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ অর্থ আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্টকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (সহীহ আল বুখারী) (খ) সাধারনত সমাজের ধার্মিক শ্রেনী...

ইমানের মুল পূর্ণতা অর্জন করা ।

Image
ঈমান ছাড়া কোন কল্যান বা পুর্নের কাজ মহান আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। কেহ কেবলার দিক ফেরাকে মুল পুর্ন মনে করে। কেহ শুধু জিহাদ করাকে মুল পুর্ন মনে করে। কেহ তাবলীগ করাকে মুল পুর্ন মনে করে। কেহ পীর মরীদীর কার্যকলাপকে মুল পুর্ন মনে করে। কিন্তু মুলত মুল পুর্ন হলো ঈমান ও ঈমান ভিত্তিক আমল বা সৎকাজ। ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা বাইতুল মুকাদ্দাসের পুর্ব বা পশ্চিম দিকে ফিরে ইবাদাত করাকে মুল পু্র্নের কাজ মনে করতো। আল্লাহ বলেন, পুর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরানো মুল পু্র্ন নয়। মুল পু্র্ন হলো ঈমান ও আনুগত্য। ঈমান না থাকলে ও সর্বক্ষেত্রে আনুগত্য না থাকলে বাহ্যিক কর্মের কোন মুল্য নেই। ★ ঈমান সম্পর্কিত আলোচনা : ﻭﻟﻜﻦ ﺍﻟﺒﺮ ﻣﻦ ﺍﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻻﺧﺮ ﻭﺍﻟﻤﻼﻳﻜﺔ ﻭﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺍﻟﻨﺒﻴﻦ অর্থ কিন্তু মুল পুর্ন হলো আল্লাহ, শেষ দিন, ফেরেস্তামন্ডলী, আসমানী কিতাব ও নাবীউ - রাসুলগনের প্রতি ঈমানদারের পুর্ন। ★পুর্ব বা পশ্চিম দিক ফিরে নামাজ পড়া মুল পুর্ন নয়। কুরবানীর গোস্ত ও রক্ত কাবা শারীফের গাত্রে মাখানো আল্লাহর দরবারে পৌছে না।বরং তোমাদের ঈমান ও তাকওয়া পৌছে। (ক)মুল পুর্ন আল্লাহর প্রতি ঈমান। শুধু আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস নয়। আল্লাহ বিশ্বে...

আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসা এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ঘৃণা করা

Image
★আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই ভালবাসবে এবং ঘৃনা করবে। সাধারনত দেখা যায় মানুষ নিজের স্বার্থের প্রতি খেয়াল করে কাউকে ভালবাসে এবং কাউকে ঘৃনা করে। স্বার্থ পাওয়া যাবে না, সেখানে ভালবাসা থাকবে না এবং স্বার্থ পাওয়া যাবে, সেখানে ভালোবাসাও পাওয়া যাবে। স্বার্থহানী ঘটবে, সেখানে ঘৃনা করবে, যদিও সেটা ভাল কাজ। ★ তাই আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, ﻣﻦ ﺍﺣﺐ ﻟﻠﻪ ﻭﺍﺑﻐﺾ ﻟﻠﻪ ﻭﺍﻋﻄﻲ ﻟﻠﻪ ﻭﻣﻨﻊ ﻟﻠﻪ ﻓﻘﺪ ﺍﺳﺘﻜﻤﻞ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ অর্থ যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসবে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঘৃনা করবে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে দেবে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে দেবেনা, তার ঈমান পরিপুর্ন হলো। (সহীহ আল - বুখারী ঈমান অধ্যায়ে) ★আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া পাওয়ার কারন। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, ﺳﺒﻌﺔ ﻳﻈﻠﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﻇﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﻻﻇﻞ ﺍﻻ ﻇﻠﻪ ﺍﻣﺎﻡ ﻋﺎﺩﻝ ﻭﺭﺟﻞ ﻧﺸﺄ ﻓﻲ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﻌﻠﻖ ﺑﺎﻟﻤﺴﺠﺪ ﻭﺭﺟﻼﻥ ﺗﺤﺎﺑﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺟﺘﻤﻌﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺗﻔﺮﻗﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﺩﻋﺘﻪ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺫﺍﺕ ﺣﺴﺐ ﻭﺟﻤﺎﻝ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻧﻲ ﺍﺧﺎﻑ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﺗﺼﺪﻕ ﺑﺼﺪﻗﺔ ﻓﺎﺧﻔﺎﻫﺎ ﺣﺘﻲ ﻻﺗﻌﻠﻢ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﻣﺎﺗﻨﻔﻖ ﻳﻤﻴﻨﻪ ﻭﺭﺟﻞ ﺫﻛﺮﺍﻟﻠﻪ ﺧﺎﻟﻴﺎ ﻓﻔﺎﺿﺖ ﻋﻴﻨﺎﻩ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ★অর্থ সাতশ্রেন...

কেমন রোগাক্রান্ত হলে রোযা ভঙ্গ করা যায়?

Image
আল -কুরআনে মুমিনদের আদেশ -নিষেধ(৭০) মুহাদ্দিস রবিউল বাশার  -------------------------------------------------------------- সুরা আল বাকারার ১৮৪ নং আয়াতের বাকী ব্যাখ্যা : ★কেমন রোগে রোযা ভঙ্গ করা যায়? রোগের দুটি অবস্থা।যথা (১)যে রোগে কোন অবস্থায় রোযা রাখতে সক্ষম হবে না। এমন রোগে রোযা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। (২)যে রোগে ক্ষতি ও কষ্টসহকারে রোযা রাখতে সক্ষম। এমন রোগে রোযা ভঙ্গ করা মুস্তাহাব। এ অবস্থায় মুর্খ ব্যক্তি ছাড়া কেউ রোযা রাখে না। (তাফসীরে কুরতুবী) ★ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন,রোযাদার ব্যক্তি রোযা রেখে যখন আশংকা করবে যে, যদি রোযা ভঙ্গ না করে, তাহলে তার চোখের বেদনা বেড়ে যাবে এবং তার জ্বর কঠিন আকার ধারন করবে, তখন রোযা ভঙ্গ করা যাবে। নইলে রোযা ভঙ্গ করা যাবে না। ★অধিকাংশ আলিমদের অভিমত হলো, যখন রোযাদার ব্যক্তির এমন রোগ হবে, যা ব্যাথা, যন্ত্রনা ও কষ্টদায়ক, রোগ দীর্ঘায়িত বা রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা হবে, তখন রোযা ভঙ্গ করা শুদ্ধ। ইবনে আতিয়্যা বলেন, ইমাম মালিক (রহঃ) এর দুরদৃষ্ট সম্পন্ন সাথীদের ইহাই মাযহাব। তারা এইমত নিয়ে বিতর্ক করতেন। ইমাম মালিক (রহঃ ) এর ভাষা হলো, রোযা ভঙ্গ করা শুদ্ধ হয় এমন রোগে, যাতে ...

মুসাফিরের জন্য কখন রোযা ভঙ্গ করা জায়েয?

Image
আল -কুরআনে মুমিনদের আদেশ -নিষেধ(৭৩) মুহাদ্দিস  রবিউল বাশার  -------------------------------------------------------------- ★মুসাফিরের জন্য কখন রোযা ভঙ্গ করা জাইয? জবাব : মুসাফিরের জন্য রোযা ভঙ্গ করার দুটি শর্ত আছে। যথা (১)সফরের দুরত্ব এমন হতে হবে, যাতে নামায কসর করা জাইয বা ওয়াজিব হয়। (২)ফাযরের সময় হওয়ার পুর্বে সফর শুরু করে ফাযরের সময় হওয়ার পুর্বে এমন স্থানে পৌছাতে হবে, যে স্থানে নামায কসর শুরু করতে হবে। তবে সফর যদি নামায কসর করাকে জাইয বা আবশ্যক না করে, তাহলে রমাদানের রোযা ভঙ্গ করা জাইয নয়। যেহেতু আল্লাহ বলেন, ﻓﻤﻦ ﻛﺎﻥ ﻣﻨﻜﻢ ﻣﺮﻳﻀﺎ ﺍﻭ ﻋﻠﻲ ﺳﻔﺮ ﻓﻌﺪﺓ ﻣﻦ ﺍﻳﺎﻡ ﺍﺧﺮ অর্থ অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ্য থাকলে বা সফরের উপর থাকলে, তারপর (রোযা ভঙ্গ করলে )অন্যদিন গননা করে রোযা রাখা উচিৎ। ★"সফরের উপর থাকলে "শব্দের মাধ্যমে দুটি বিষয় জানা যায়। যথা (1)দীর্ঘ সফর বুঝায়, যা নামায কসর করাকে মুবাহ বা ওয়াজিব করে দেয়।( 2)সফর শুরু করার পুর্বে রোযা ভঙ্গ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। মুসাফিরের জন্য রোযা ভঙ্গ করা বৈধ হওয়ার জন্য এই দুটি শর্ত সম্পর্কে হানাফী, মালিকী ও শাফিয়ী মাযহাবের আলিমগন ঐক্যমত পোষন করে...