Posts

Showing posts with the label রেহনুমা বিনত আনিস

তুলনায় সুখ অসুখ - রেহনুমা বিনত আনিস।

তুলনায় সুখ অসুখ লিখেছেন  রেহনুমা বিনত আনিস  ১৬ জুন ২০১২, দুপুর ১২:১৩ সময় সময় আমার মাথায় অদ্ভুত সব খেয়াল চাপে। যেমন আজ ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী সোনু নিগামের ভারী দরদমাখা একখানা গান শুনে ভাবছিলাম এই লোকটার গলায় আল্লাহ এত দরদ ঢেলে দিয়েছেন, এত সুন্দর স্পষ্ট উচ্চারণ মাশাল্লাহ! পরে মসজিদে জুমার নামাজের সময় ইমাম সাহেবের ভারী তাৎপর্যপূর্ণ অথচ ভাঙ্গা গলায় ভুল উচ্চারণে খুতবা শোনার সময় মনে হোল সোনু নিগাম যদি এই অসাধারন গলায় পার্ফেক্ট উচ্চারণে কুর’আন তিলাওয়াত করতেন বা খুতবা দিতেন কেমন হত? হাসি পেল? কল্পনার ডানায় ভর করে যেকোন জায়গায় উড়ে যাওয়া যায়, ভাগ্যিস কল্পনাতে কেউ শেকল পরিয়ে দিতে পারেনা!  এমনই সব বিচিত্র খেয়ালী ভাবনা বসবাস করে আমার এলোমেলো মাথাটায়। এমন সব জিনিসে হাসি পায় যেটা কেউ দেখতেই পায়নি বরং কাউকে বোঝাতে গেলে হাসির মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়, এমন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব ঘটনায় অনুভূতিতে ভারাক্রান্ত হই যেগুলো হয়ত স্বাভাবিকভাবে কারো মাঝে কোন অনুভূতির উদ্রেক করেনা, আবার এমন সব কঠিন পরিস্থিতিতে শক্ত এবং অনড় থাকি যেখানে অনেকেই স্থির থাকতে পারেনা। আমার ধারণা এই বিচিত্র ব্যাপারগুলো হয় দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কা...

সৎ এবং সাটসী মানুষ - রেহনুমা বিনত আনিস।

Image
সৎ এবং সাহসী মানুষ লিখেছেন  রেহনুমা বিনত আনিস  ০৮ অগাস্ট ২০১২, সকাল ১১:২৮ ১।  জোন অফ আর্ক, ইখতিয়ারুদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজি, উসামা বিন জায়েদ- এরা ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে জন্মেছে এবং বেড়ে উঠেছে। কিন্ত এদের মাঝে রয়েছে এক বিরল সাদৃশ্য। এরা প্রত্যেকেই জাতির সংকটময় মূহূর্তে নিজ নিজ সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে অকল্পনীয় পরিস্থিতির ভেতর বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এদের আরেকটা মিল হোল ওরা সবাই ছিল টিনেজার- early teenager. অথচ তাদের বোঝার ক্ষমতা, মেধা, যোগ্যতা, দায়িত্বশীলতা ছিল অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ এবং পরিপক্ক লোকজনকে পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট। আজ পৃথিবীর কোথাও কি আমরা এমন একজন টিনেজার খুঁজে বের করতে পারব?  আমাদের টিনেজারদের দোষ নয়- তাদের বাবারা কলের ইঁদুরের মত টাকার পেছনে ছুটছেন, পরিবারকে এনে দিচ্ছেন সকলপ্রকার ধনসম্পদ প্রাচুর্য সম্ভার কিন্তু সন্তানের গঠনপ্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ করার সময় নেই; মায়েরা স্বাভাবিকভাবেই অনুভূতিপ্রবণ এবং সন্তানের কল্যাণকামী, কিন্তু স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তানকে আগলে রাখার প্রবণতা বেড়ে এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যা তাকে পঙ্গু করে ফেলার জন্য যথেষ্ট। আর স্...

অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে তরুণ যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

১. ইন্টারনেটের আড্ডায় নিমজ্জিত ৮০% যুবক পরবর্তীতে বিয়ে করে না। ২. এদের ৭০% নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত করে এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। ৩. এদের ৫৫% তাদের পরিবারের কোন খোঁজখবর নেয়না। ৪. এদের অধিকাংশই খারাপ ওয়েবসাইট সমূহের ঠিকানা বিনিময় করে, এমনকি তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহেও। ফলে এটি শিক্ষা কার্যক্রকে বড়ই বাধাগ্রস্ত করে। ৫. ইন্টারনেটে আসক্ত অধিকাংশ যুবকের শিক্ষা জীবনের উপর এর কুপ্রভাব পড়ে। তাদের কেউ কেউ লেখাপড়ায় অগ্রগামী থেকেও পরে পর্যায়ক্রমে পশ্চাদগামী হয়ে পড়ে। ৬. ইন্টারনেটে আসক্ততা নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠার পরিবর্তে অভ্যন্তরীন দ্বন্ধ-সংঘাতের ঘটনা ঘটায়। ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক নতুন মুল্যবোধ গড়ে উঠে। ৭. যেমনি ভাবে ইন্টারনেট পারিবারিক বন্ধনকে শিথিল করে দেয়, তেমনি এর মাধ্যমে স্বাভাবিক বিবাহের মাধ্যমে গঠিত পরিবারতন্ত্র ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। ফলে পরিবারের পরিবর্তে অবৈধ পন্থার অবাধ জীবন যাপনে এরা অভ্যস্ত হয়ে উঠে। এরা মনে করে যৌনতাই বিবাহের মূল উদ্দেশ্য, আর সে উদ্দেশ্য যদি বিবাহ ছাড়াই পূরণ করা সম্ভব হয়, তাহলে বিাবহের আর প্রয়োজন কি? অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ বন্ধনে আরো অনেক গ...

যে ৮ টি বিষয় আপনার দাম্পত্য জীবনকে অশান্তিময়, দুর্বল এবং অকার্যকর করতে থাকে-

Image
যে ৮ টি বিষয় আপনার দাম্পত্য জীবনকে অশান্তিময়, দুর্বল এবং অকার্যকর করতে থাকে-- ১) খারাপ ব্যবহার করা : তাকে এমন কিছু নিয়ে ঠাট্টা করা যাতে সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এমন ধমক দেয়া যা অন্যদের সামনে তার অসম্মান হয়ে যায়। তাকে অপমান করা আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধকে কমিয়ে দিবে। ২) উপেক্ষা করা : তার পছন্দ, ভালোলাগা কিংবা তার কথাবার্তাকে গোণায় না ধরা বা পাত্তা না দেয়া। হয়ত সে সালাম দিয়েছেন আপনাকে, আপনি উত্তর দিলেন না। বেশ কিছুদিন যাবৎ খুব আগ্রহ নিয়ে হয়ত সে কিছু বলছে কিন্তু আপনি বিশেষ কারণ ছাড়াই তার কথার পাত্তা দিচ্ছেন না। ৩) মিথ্যা বলা : দুষ্টামি করেও মিথ্যা বলা সঠিক নয়। আল্লাহ মিথ্যাকে নিষিদ্ধ করেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের এই ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন। ৪) কথা দিয়ে কথা না রাখা : কথা দিয়ে কথা রাখা বা ওয়াদা রক্ষা করা একজন মু'মিনের বৈশিষ্ট্য। বিষয়টি দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৫) এড়িয়ে চলা : অনেকদিন পর দেখা হলে বন্ধুদেরকে বা ভাইদের আমরা জড়িয়ে ধরি, কোলাকুলি করি। আপনার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে পারেন না? পারবেন, অস্বস্তি লাগলেও তা ভেঙ্গে ফেলুন। ভালোবাসার প্রকাশ থাকা খুবই প্রয়োজন। ৬) সন্দেহ ...

দাম্পত্য সমস্যা - mother-in-law phobia - শাশুড়ি ভীতি

Image
মেয়েরা সাধারনত সবচেয়ে বেশী যে বিষয়ে গীবত করে সেটা হল শাশুড়ি এবং শ্বশুর বাড়ি। এটা ফ্যাক্ট যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এটা যে শুধু উপমহাদেশের মেয়েদের মধ্যে বেশী তা কিন্তু নয়; বরং এটি একটি গ্লোবাল ব্যপার। ইদানীং ফেইসবুক এই গীবতের একটা চমৎকার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু মেয়ে তো রীতিমত ‘mother-in-law phobia’ তে ভুগেন এবং তার আশেপাশের লোকজন এই ফোবিয়াকে ডিজেল/পেট্রোল ঢেলে আরও বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কোন রকম কারন ছাড়াই তারা বিয়ের পরের দিন থেকেই তার স্বামীর বাড়ির সবাইকে এবং বিশেষ করে শাশুড়িকে তার প্রতিপক্ষ মনে করেন। আমি একজনকে জানতাম, তাকে কেউ ঘটকালী করতে বললে তিনি ইয়াতিম ছেলে খুঁজতেন, এই ভেবে যে মেয়ের শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন থাকবে না! নিজের মা যে কথাটা বললে হয়ত সে মোটেই আমলে আনতো না, সেই একই কথা শাশুড়ি বললে সে আকাশ-পাতাল (বর্তমানে ফেইসবুক) একাকার করে ফেলে। অনেকেই হয়ত বলবেন, সমস্যাটা ভাইস ভার্সা। সত্যিকথা বলতে কি, আমি কিন্তু আমার আশেপাশে গীবতকারী বউদেরই বেশী দেখি, শাশুড়ি দেখি না বললেই চলে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যদি শাশুড়ির সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় তাহলে সব দিক দিয়ে বউ-...

দাম্পত্য সমস্যা ও সামাধান -১

Image
দাম্পত্য সমস্যা ও সমাধান - ১ আমাদের দাম্পত্য পরিবারের যাত্রা শুরুর সময়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাই আমাদের পৃথিবীর সবচাইতে মূল্যবান প্র্তিষ্ঠান পরিবার যেন সুন্দর, ভালোবাসাপূর্ণ, হৃদ্যতাপূর্ণ হয় তাই কিছু টিপস, আইডিয়া আমরা শেয়ার করব। এতে আপনাদের সকল চিন্তা ও আইডিয়াও আমরা গ্রহণ করব আন্তরিকভাবে যেন একটা সুন্দর সমাজ গঠনে আমরা সবাই একসাথে এগিয়ে যেতে পারি। সেই সাথে কাউন্সিলের কথাও আমরা বলেছিলাম, আমাদের সাথে কেউ তাদের সমস্যা শেয়ার করলে তা আমরা যোগ্য কাউন্সেলরদের মাধ্যমে সমাধান বা আলাপ জানিয়ে দিব -- যা হবে ইসলামের আলোকে। একজন বোন তার একটা সমস্যা জানিয়েছিলেন, তাকে যেই উত্তরটা দেয়া হয়েছিল তা তার অনুমুতি সাপেক্ষে আমরা প্রকাশ করছি নোট আকারে -- যেন তা অন্যান্যদের কাজে লাগে। আল্লাহ আমাদের পরিবারগুলোতে পারস্পারিক ভালোবাসা-হৃদ্যতা-সম্মান বাড়িয়ে দিন যেন তা আখিরাতে মুক্তির উসিলা হয় এবং তা শান্তির জায়গাতে পরিণত হয়। দাম্পত্য সমস্যা - ১: আসসালামু আলাইকুম। আমি প্রবাসে থাকি। আমার স্বামী একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের বিয়ের অনেক দিন হয়ে গেল, (চার বছরেরও বেশি), এখনো কোন সন্তান হয়নি, কিছু শারীরিক সমস্য...

নারীদের বিবাহের জন্যে ‘ওয়ালী’ বা অভিভাবক ও তার শর্তাবলী, অভিভাবকের বাঁধা ও করণীয়ঃ

নারীদের বিবাহের জন্যে ‘ওয়ালী’ বা অভিভাবক ও তার শর্তাবলী, অভিভাবকের বাঁধা ও করণীয়ঃ লিখেছেনঃ শায়খ আব্দুল্লাহিল আল-কাফী। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “(নারীদের জন্যে) ওয়ালী বা অভিভাবক ব্যতীত কোন বিবাহ নেই।” সুনানে তিরমিযীঃ ১১০১, সুনানে আবু দাউদঃ ২০৮৫; শায়খ আলবানী (রহঃ) হাদিসটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন। তিনি আরো বলেন, “যে নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করবে তার বিবাহ, বাতিল, বাতিল বাতিল। অভিভাবকরা যদি ঐ নারীর বিবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে, তবে যার ওয়ালী নেই সুলতান বা শাসক তার ওলী বা অভিভাবক হবে।” মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযীঃ ১১০২, আবু দাউদঃ ২০৮৩, ইবনে মাজাহ, মিশকাতঃ ৩১৩১। তাই কোন নারীর বিবাহের জন্য ‘ওয়ালী’ বা অভিভাবক আবশ্যক। অভিভাবক উপযুক্ত হওয়ার জন্য ৬টি শর্ত রয়েছেঃ (১) ‘আকল’ বা বিবেক সম্পন্ন হওয়া (পাগল হলে হবে না) (২) প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া (৩) স্বাধীন হওয়া (৪) পুরুষ হওয়া (বিবাহের ক্ষেত্রে কোন নারী অন্য একজন নারীর অভিভাবক হতে পারবে না) (৫) অভিভাবক ও যার অভিভাবক হচ্ছে উভয়ে একই দ্বীনের অনুসারী হওয়া। (কোন কাফের ব্যক্তি মুসলিম নারীর অভিভাবক হতে পারবে না। কোন মুসলিম কোন কাফের...

অনন্যার অরণ্যপ্রেম [ভালোবাসার অণুগল্প]।

Image
অনন্যার অরণ্যপ্রেম [ভালোবাসার অণুগল্প]। অনন্যা হঠাৎ এতটা বদলে যাবে আশা করিনি। ও সবসময়েই আমাকে পছন্দ করত, আর সেইটা বাড়াবাড়ি টাইপের পছন্দ ছিল। সেই পছন্দের সাথে মুগ্ধতা ছিল বলে মনে হত আমার। অনন্যাকে নিয়ে আমার অধিকার অনুভব করার ব্যাপার ছিল সেই স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। আমার স্কুল ছুটি হত আগে, সে বাসায় ফেরার সময় আমি মাঝে মাঝে দরজা খুলে দাঁড়িয়ে যেতাম। সিঁড়িতে দিয়ে উঠার সময় আমার দিকে হাসি দিতো অনন্যা। ও হাসলে গালে টোল পড়ত, আমার সেইটা খুব পছন্দের ছিল। ক্লাস ফোরে উঠতেই আমাদের বাসা বদলে গেল। ওরা তখনো আগের বাসায় থাকে। অনেকদূর হেঁটে ওদের বাসায় যেতে হত। আমি যেতাম মাঝে মাঝেই। খালাম্মা আগের মতন আদর করত না টের পেতাম। আগে বাসায় গেলেই খুব আগ্রহ নিয়ে আমাকে স্কুলের প্রশ্ন করতেন, আম্মা আর ভাইয়া আপুদের কথা জিজ্ঞেস করতেন, পরে কেমন না দেখার ভান করতেন যেন। বুঝতে পারতাম তাল কেটে গেছে। বড় হতে হতে সব কিছু বুঝে যাতায়াতও কমিয়ে দিয়েছিলাম। কথাবার্তা কম হতে হতে একদিন ভুলেও গিয়েছিলাম ওর কথা। মাঝে মাঝে মনে হত, যখন কবিতা পড়তাম। রবীন্দ্রনাথের কবিতা পড়েছিলাম ক্ষণমিলন — “মূহুর্ত আলোকে কেন হে অন্তরতম, ...

কতিপয় হলকায়ে জিকির আর আমাদের এফএম প্রজন্মের ভালোবাসার গল্প।

Image
কতিপয় হলকায়ে জিকির আর আমাদের এফএম প্রজন্মের ভালোবাসার গল্প। আমার বাসার নীচতলায় পুরো স্পেসটাই ফাঁকা থাকে, বাড়ির মালিক একটি দরবার শরীফের পীরের মুরিদ। আজকে তাদের পাক্ষিক জিকির দিবস। ঘরভর্তি জনাত্রিশেক লোকের 'লা ইলাহা এল্লাল্লাহ' (ইল্লাল্লাহ হওয়া উচিত) চিৎকারে এলাকা প্রকম্পিত হবার অবস্থা। আল্লাহর একত্ববাদকে কেবলমাত্র চিৎকারের মাধ্যমে জনসাধারণের মনে বসিয়ে দেয়ার ভাবনায় এই আয়োজন কিনা তা কে জানে!! বিগত ঘন্টাখানেক ধরেই এই সশব্দ জিকির চলছে। চলবে অন্তত রাত দশটা অবধি... গমগম শব্দে তৈরি হয়েছে এক ভয়াল পরিবেশ, বুকে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। তাদের এই সশব্দ স্মরণশালায় নেই কোন সৌন্দর্য, মাধুর্য, শুনে আত্মায় কোন প্রশান্তি আসে না... পরিষ্কার মনে আছে, কয়েক সপ্তাহ আগে এমনই একদিন শুক্রবারে, এই জিকির পার্টি চলে যাবার পরে পাশের বিল্ডিং এর ছাদে কোন এক কিশোর/ কিশোরীর উপলক্ষে ব্যাণ্ড কনসার্টের আয়োজন হয়েছিল। সেখানে শোনা গিয়েছিলো -- "মীরাবাঈ, হেইলা, দুইলা দরবার নাচায়। ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ দোলানা " -- জাতীয় আরো কিছু গান। সেই রাতে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক -- সমগ্র এলাকাবাসী দুলছিলো, তা...

online offline it doesn't matter, the evil eye is real !!

Image
online offline it doesn't matter, the evil eye is real !! আমার এক বন্ধুর তার পরিচিত এক মেয়েকে বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহ ছিল। তার আগ্রহের কারণ ছিল মেয়ের মা মেয়েকে মাশাআল্লাহ বেশ ইসলামী অনুশাসনে বড় করেছেন। পরিবারটিকে আমিও চিনি। আলহামদুলিল্লাহ ছেলেদের সাথে মিশবে তাই অ্যান্টি মেয়েকে পড়িয়েছেন গার্লস স্কুলে, ওমেন কলেজে। কোচিং এ পড়লে ফিতনায় জড়িয়ে যাবে তাই বাড়িতে মহিলা টিচার রেখে মেয়েকে পড়ান। ইন্টারনেটের পাল্লায় পড়ে খারাপ হয়ে যাবে সেই ভয়ে মেয়েকে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে দিতেন না! (১) কয়দিন আগে সেই বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, বিয়ের কি অবস্থা! সে জানালো, বাদ দিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ একদিন মেয়ের ফেসবুক প্রোফাইল দেখে বন্ধু যারপরনাই হতাশ। মেয়ের ছবি আপলোড আর সেখানে ছেলেদের সাথে লুতুপুতু দেখে বন্ধুর আগ্রহ মরে গেছে। ওয়াল্লাহি এটা খুবই দুঃখজনক! নিজেদের মেয়েদেরকে মানুষের সামনে শো করে বেড়ানো জাহেল বাবা মায়েদের কথা বাদই দিলাম। আমাদের ইসলামপন্থী বাবামায়েদের কথা বলছি যারা তাদের মেয়েদেরকে ইসলামের অনুশাসনে বড় করছেন, মেয়েকে পর্দার মধ্যে লালন করছেন, মেয়েকে নন মাহরামের সাথে মিলামিশা থেকে বিরত র...

পরিবার সংরক্ষণ ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সুন্দর জীবন যাপনে স্ত্রীর ভূমিকা।

Image
পরিবার সংরক্ষণ ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সুন্দর জীবন যাপনে স্ত্রীর ভূমিকা। মুসলিম নারীর জেনে রাখা উচিত যে, সৌভাগ্য, ভালোবাসা ও অনুকম্পা তখনই পরিপূর্ণতা লাভ করবে, যখন সে সচ্চরিত্রবান ও দ্বীনদার হবে; সে তার নিজের জন্য উপকারী ইতিবাচক দিকগুলো জেনে নিবে; যাতে সে তার সীমা অতিক্রম ও লঙ্ঘন না করে; সে তার স্বামীর আহ্বানে সাড়া দিবে; কারণ, তাকে পরিচালনার ব্যাপারে স্বামীর উপর দায়িত্ব রয়েছে, স্বামী তাকে হেফাযত করবে, সংরক্ষণ করবে এবং তার জন্য ব্যয় করবে; সুতরাং স্ত্রীর উপর আবশ্যক হলো, স্বামীর আনুগত্য করা, স্বামীর জন্য সে তার নিজকে সংরক্ষণের নিশ্চয়তা বিধান করা এবং স্বামীর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করা; আর স্ত্রী তার নিজের কাজ-কর্ম সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিবে ও তা যথাযথভাবে পালন করবে এবং সে তার নিজের ও সংসারের প্রতি যত্নবান হবে; সে হবে পবিত্রা স্ত্রী, মমতাময়ী মাতা, তার স্বামীর সংসারের রক্ষণাবেক্ষণকারিনী দায়িত্বশীলা, যে দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে তাকে জবাবদিহী করতে হবে। সে তার স্বামীর ভালো ও সৌন্দর্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দিবে, তার অবদান ও উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জীবন-যাপনের বিষয়টিকে অবজ্ঞা ও অস্বীকার করবে না;...

স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীলতা।

Image
স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীলতা। "আজ সারাদিন কাজের বেশ চাপ ছিল, এখন কথা বলতে পারব না।" - দিনশেষে ঘরে ফিরে এটাই হয় আপনার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে আপনার প্রথম কথা। আপনি আসলে কি করছেন আপনি জানেন? আপনি আপনার দাম্পত্য জীবনকে নিজ হাতে ধ্বংস করছেন। এখন আমি কিছু প্রশ্ন করবো আমার ভাইদের উদ্দেশ্যে। আমার প্রশ্নগুলো বোনদের পক্ষ থেকে নয় বরং একজন সাংসারিক পুরুষ হিসেবে অপর পুরুষদের উদ্দেশ্যে। -- আপনি শেষ কবে আপনার স্ত্রীর জন্য উপহার হাতে ঘরে ঢুকেছিলেন তাকে চমকে দেবার জন্য? -- শেষ কবে আপনি আপনার স্ত্রীর জন্য অন্তত কিছু একটা নিয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন, একদম নিজ থেকেই, তার কোন আবদার ছাড়াই? -- শেষ কবে আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে ঘরের পাশের বাজারটিতে নিয়ে গিয়েছিলেন যেখানে আপনার স্ত্রী কেনাকাটার জিনিস বাছাই করতে করতে আপনার মতামত চাইছিল আর আপনি বলছিলেন, "এটা না, হুম ওটা নাও..."? -- শেষ কবে আপনি আপনার স্ত্রীকে বিনা আবদারে বাহিরে কোথাও ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলেন? -- শেষ কবে আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে কিছু একটা কিনে দিয়েছিলেন - অন্তত একটা আইসক্রিম? একটু মনে করুন.....। আসলে সত্য কথাট...

IF CHARACTER IS LOST, EVERYTHING IS LOST... চরিত্র নষ্ট তো সবই নষ্ট

Image
IF CHARACTER IS LOST, EVERYTHING IS LOST... ১) পাশের রিকসাটা যাওয়ার সময় শব্দ শুনে তাকালাম, ছেলেটা বাম হাতে মেয়েটার পিছনে কোমর জড়িয়ে বসা। মেয়েটা সহসা আবেগে-আহলাদে উথলে উঠে সামনের চুলগুলো পাশে সরিয়ে দিলো। ওরা পিচ্চি পিচ্চি ছেলেমেয়ে, কলেজ পাশ করেনি নিশ্চিত। রিকসা জ্যামে বসে আছি। কৌনিক দুরত্বে রিকসায় এক ছেলে দুই মেয়ে বসে। ছেলেটা উপরে বসে দু'পায়ে প্রসারিত করে মাঝখানে একটা মেয়েকে বসিয়েছে। ওদের রিকসায় বসা ও আলাপের ধরণের গোটা বিষয়টাতে নোংরামি ঠিকরে বের হচ্ছিলো। পাশের মানুষেরা তাদের দিকে তাকালেও কারো ভ্রূক্ষেপ নাই। সহ্য করা কঠিনই। পকেট থেকে মোবাইল বের করে এটা-ওটা পড়তে লাগলাম। কী আর করা... "ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কুলুবানা 'আলা দ্বীনিক" (২) একটু ভ্যাতলা ভ্যাতলা মিষ্টি কথা, জন্মতারিখ জানা, আকাইম্মা বিষয় নিয়া আজাইরা প্যাচাল পাড়তে পারা আর ফাস্টফুডের দোকানের বিলটা দিতে পারলেই প্রেমিক হওয়া যায়। পটায়া পটায়া বহুত আকাম করা যায়। চুলগুলা না আঁচড়ালে, একটু 'ক্যাজুয়াল লুক' নিতে পারলে তো পোয়াবারো। আধযুগ ধরে প্রেম করা পোলারে তাদের বিয়া কবে হবে তা জি...

'মেয়েবাজি' করা ছেলেদের জীবন কখনই সুখের হয় না।

Image
'মেয়েবাজি' করা ছেলেদের জীবন কখনই সুখের হয় না। কত মানুষ দেখলাম, একসময় হয়ত আহামরি 'ভালা ইশটুডেন' আছিলো না, অথবা তার 'ভালা চাক্রি' আছিলো না, কিন্তু চরিত্র ভালোই ছিলো। কলেজ- ভার্সিটিতে কিছু নারীদেহ নিয়া অশ্লীল শব্দ শিখলো, এরপর শিখলো শ্লীল-অশ্লীল মুভি দ্যাখা। রাস্তায় মেয়েদের কিছু শব্দ ছুঁড়ে দেয়, ক্লাসমেট মেয়েদের যেচে পড়ে 'ফ্লার্টিং করে' --যা তার অভ্যাস হয়ে গেলো। ফোনে আর ফেসবুকে পিরিতি করে চরিত্রটা দুর্গন্ধময় হয়। মোবাইলে অনেকগুলা মেয়েরে সময়ে অসময়ে ফোন দিয়া আলাপ করতো, মজা-টজা করতো, ওদের কয়েকটার সাথে পিরিতিও করলো। একসময় সময় পেরিয়ে গেলো ৫-৬ বছর। ছেলের ভালো চাকরি হলো, টাকা হলো। তবু স্বভাবটা আগের মতই 'মেয়েবাজ'। বিয়েও হলো, মেয়েটার ক্যারিয়ার বেশ ভালো, সরকারি মেডিকেলের ছাত্রী। শুধু মাঝে মাঝে একটু বেশি গল্প করে এখানে ওখানে। পারিবারিক অশান্তির কারণে দু'জন দু'জনের কুৎসা ছড়িয়ে বেড়ালো ফ্রেন্ড সার্কেলে। স্ত্রীর 'সমস্যার' কথা বলে মেয়েটির বান্ধবীদের কারো কারো সাথে সহানুভূতি নিতে গিয়ে ছেলেটি 'মেয়েবাজি' করতে চেয়েছে এমন গল্পও ওদের 'সার্কেলে...

আমার ভাগ্য কী আমার হাতে !?

Image
আমার ভাগ্য কী আমার হাতে। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম The lamb thy riot dooms to bleed today, Had he thy reason, would he skip and play? Pleas'd to the last, he crops the flow'ry food, And licks the hand just rais'd to shed his blood. Oh blindness to the future! kindly giv'n, That each may fill the circle mark'd by Heav'n: কবি আলেকজান্ডার পোপের এই চিত্রকল্পটি যখন প্রথম পড়েছিলাম তখনও আমি ইসলাম বোঝা শুরু করিনি। কিন্তু ব্যাপারটা আসলেই খুব মনে ধরেছিল। একটা ভেড়া যদি জানত আজ তার জীবনের শেষ দিন, সে কি লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করতে পারত? সেকি তার এতদিনের পালক কিন্তু ভবিষ্যত হন্তারকের হাত থেকে খাবার খেতে পারত? আসলে আল্লাহ অনেক দয়া করে ভাগ্যকে আমাদের সামনে অজানা রেখেছেন নয়ত আমরা একটি দিনও চলতে পারতামনা। জ্ঞান প্রকাশ্যের আকাঙ্খা যাদের মধ্যে প্রবল তাদের বিতর্কের একটা প্রিয় বিষয় হচ্ছে ভাগ্য। অবশ্য শুধু পন্ডিত নয়, ভাগ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করে সাধারণ মুসলিমরাও বিপদে পড়ে যায় প্রায়ই। ভাগ্য অদৃশ্য জগতের ব্যাপার। অতীতকে আমরা দেখি কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে তা কেউ জানে না। হস্ত-বিশার...

শুষ্ক নিয়মের বেড়াজালে : কিছু অর্থহীন সামাজিক রীতি

Image
শুষ্ক নিয়মের বেড়াজালে : কিছু অর্থহীন সামাজিক রীতি মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ বইয়ে অনেক পড়েছি সেকথা। আর জীবন থেকেও দেখেছি আমরা সবাই। সমাজটা মানুষ দিয়েই তৈরি। তবু এই সমাজের "হয়" আর "নয়"গুলো কেমন যেন মানুষেরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মানুষের সমাজে মানুষের দ্বারা তৈরি নিয়ম কানুনগুলো অনেকসময় মানুষেরই গলায় ফাঁস হয়ে চেপে বসে। যেমন কিনা মেয়ের বিয়ে দেয়ার সময়ের "হয়-নয়" গুলো। আবার ঈদ- অনুষ্ঠান ইত্যাদির "না করলে তো চলে না"গুলো! আর কিছু কিছু সৌজন্য আছে যা এককালে অনেক মমতার থেকে সৃষ্টি হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রেই শুষ্ক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এগুলো নিয়ে কেউ তেমন একটা ভাবে না কারণ মেয়ের বিয়ে দেয়ার মত শিরদাঁড়া ভাঙ্গা চাপ এগুলো সৃষ্টি করে না! আবার, অনেকের ক্ষেত্রে, করেও! ১। মানুষের বাসায় গেলেই কিছু একটা নিয়ে যেতেই হবে- সারাজীবন দেখেছি মানুষের বাসায় দাওয়াতে যাওয়ার সময় কিছু না কিছু নিয়ে যেতে হয়। কোনদিন সেটাকে বোঝা মনে হয়নি। তারপরও একবার হঠাতই টের পেলাম, অনেকেই আগে আমাদের বাসায় আসতেন, এখন আর আসেন না! আর তার কিছুদিন পর আমার বাবা মা কে আলোচনা করতে শুনলাম যে "এসব আসলেই বন্ধ করা উচি...